জেলা সদরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছে না উত্তর দিনাজপুরের প্রশাসনই। রায়গঞ্জে কিছু দিনের জন্য আধা সামরিক বাহিনী বিএসএফ মোতায়েনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সোমবার জেলাশাসক পাসাং নরবু ভুটিয়া বলেন, “রায়গঞ্জে সত্যিই আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই পুলিশের উপরে ভরসা রাখতে পারছেন না। তাই আমি রাজ্য সরকারের কাছে শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কিছু দিন বিএসএফ মোতায়েন করার প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”

রায়গঞ্জে দু’মাসে ৯টি খুন হয়েছে। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকবার গুলি, বোমা নিয়ে সংঘর্ষও হয়েছে। তাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এর মধ্যেই গত শুক্রবার শহরে স্থানীয় একটি কেবল চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক তথা প্রেস ক্লাবের সহ সম্পাদক সঞ্জীব বর্ধনকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় দুষ্কৃতীরা। সঞ্জীববাবুর মৃত্যুর পরেই শহরে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই দিন রায়গঞ্জে সিপিএম, কংগ্রেস, এসইউসি, বিজেপি পৃথক ভাবে ১২ ঘণ্টার বন্ধও ডাকে। বন্ধ সর্বাত্মকই হয়েছে।

পুলিশ সুপার দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। রায়গঞ্জে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহলদারির জন্য আবেদনের প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি উত্তরবঙ্গের আইজি অনুজ শর্মাও। তিনি বলেন, “জেলাশাসক কী বলেছেন আমি জানি না। তাই মন্তব্য করতে চাই না। রায়গঞ্জের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে ডিআইজি শশীকান্ত পূজারিকে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার তিনি রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্ট দেখে পদক্ষেপ করা হবে।” উত্তরবঙ্গের পুলিশ কর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, বিএসএফ টহলদারি করতেই পারে, কিন্তু দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করার জন্য জেলার পুলিশকে সঙ্গে থাকতেই হবে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডেভিড ইভান লেপচার দাবি, “শহরের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা চলছে। সঞ্জীববাবুকে খুনের ঘটনার সব অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা চলছে। সিআইডির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশও কাজে লাগানো হয়েছে।”

Source: Anandabazar Patrika

Advertisements