সন্ধ্যা হলেই যেন চারদিকে আতঙ্কের পরিবেশ। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত বাড়ির পথে পা বাড়াচ্ছেন সকলে। এক সপ্তাহের তিনটি ঘটনা যেন পাল্টে দিয়েছে রায়গঞ্জ শহরটাকে। মঙ্গলবার দুপুরে রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে বোমা-গুলির সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূলের দুটি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের সুদর্শনপুরে এক যুবককে গুলি করে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার কলেজপাড়ার পুকুর থেকে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনটি ঘটনাতেই এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতীরা জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। এ অবস্থায়, পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডেভিড ইভান লেপচা বলেন, “পুলিশ আইন মেনে কাজ করছে। পুলিশের নামে এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিভিন্ন মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। বাসিন্দাদের আতঙ্কে থাকার কারণ নেই। শহরে নিয়মিত পুলিশি অভিযান হচ্ছে।” রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক অতনুবন্ধু লাহিড়ী বলেন, “শহরে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। গণ্ডগোলের আশঙ্কায় বহু ব্যবসায়ী সন্ধ্যার পর দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনিক উদ্যোগে শহরের বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নিয়ে শান্তি বৈঠকের আয়োজন করা না হলে সংগঠনের তরফে ব্যবসা বন্ধের ডাক দেওয়া হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, রায়গঞ্জের পুর বাসস্ট্যান্ড বোমা-গুলি নিয়ে লড়াইয়ের ঘটনায় এক পক্ষের স্বঘোষিত নেতা ভোলা পাল ও তাঁর সঙ্গী কল্যাণ সাহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত আইনুল হক ও পার্থ মিত্র নামে আরও দুই যুবককেও গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ দুই গোষ্ঠীর কাছ থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও একটি বোমা উদ্ধার করে। কয়েক মাস আগে আইনুলকে দুষ্কৃতীরা গুলি করে খুনের চেষ্টা করেছিল। সেই বিষয়টি নিয়েই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চলতে থাকা কাজিয়া থেকে ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার ভোরে সুদর্শনপুর এলাকায় ভোলাবাবুর ভাইপো টুকাই পাল নামে এক যুবককে গুলি করে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় টুকাইয়ের এক বন্ধু প্রণবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রণবের বাড়ি বন্দর এলাকায়। ভোলাবাবু যে চার জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাদের মধ্যে এক অভিযুক্তের বাড়িও বন্দর সংলগ্ন এলাকায়।
গত শুক্রবার রায়গঞ্জের উত্তর কলেজপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে স্থানীয় রিকশা চালক ছট্টু জমাদার নামে এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছট্টুর বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় একাধিক চুরি এবং ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। টুকাইয়ের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আছে পুলিশের কাছে। এ পরিস্থিতিতে দুষ্কৃতীদের লড়াইয়ের জেরে ঘটনাগুলি ঘটে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। রায়গঞ্জ টাউন কংগ্রেস সভাপতি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রণজকুমার দাস বলেন, “পরপর এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয়। বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। সন্ধ্যার পর জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন না। দলের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে সিপিএমও। দলের রায়গঞ্জ লোকাল কমিটির সম্পাদক নীলকমল সাহা বলেন, “পুলিশের ওই ভূমিকার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালানো হবে।” তৃণমূলের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি অমল আচার্য নিজেও আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের আবেদন জানিয়েছেন পুলিশ কর্তাদের কাছে।

News Source: Anandabazar Patrika

Advertisements