রায়গঞ্জ ইউনির্ভাসিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামল কলেজ শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুটা। সোমবার দিনভর সংগঠনের সদস্যরা কলেজ চত্বরে অবস্থান আন্দোলন করেন। ওই আন্দোলনে যোগ দেন টিচার্স কাউন্সিলের একাধিক সদস্য ছাড়াও কালিয়াগঞ্জ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। টিচার্স কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, আজ, মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নেতৃত্বে টিচার্স কাউন্সিলের এক প্রতিনিধি দল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাবেন। ওয়েবকুটার রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজ কমিটির আহ্বায়ক ভাস্কর ঝাঁ বলেন, “কর্মচারী সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা তপন নাগ, সমিতির সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্তী সহ পাঁচ জন সদস্য টিচার্স কমনরুমে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের উপরে হামলা করেন। ওই ঘটনায় কলেজে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ঘটনার চারদিন পরেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চুপচাপ বসে আছেন। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।” টিচার্স কাউন্সিলের সম্পাদক মিলন রায় বলেন,“অধ্যক্ষ নিগ্রহের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছি। কিন্তু তার আগে কলেজে শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হস্তক্ষেপ দাবি করব। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের স্বার্থে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে কর্মচারী সমিতির সদস্যদের বৈঠক করে যাতে বিরোধের মিমাংসা হয় উপাচার্যের কাছে সেই অনুরোধ রাখা হবে।” গত বৃহস্পতিবার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শত্রুঘ্ন সিংহকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কর্মচারী সমিতির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা তপনবাবু, সমিতির সম্পাদক সুব্রতবাবু সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সুব্রতবাবুও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজের শিক্ষক অচ্যুতমোহন রায় চৌধুরীর নামে পাল্টা হামলার অভিযোগ জানান। তপনবাবু এ দিন বলেন, “উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গত শুক্রবার আমাদের ডেকে কলেজে শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন। সমিতির তরফে শনিবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে শান্তি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা চাই বিরোধের অবসান হোক।” ওই বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শত্রুঘ্নবাবু বলেন, “কর্মচারী সমিতির চিঠি পেয়েছি। তবে উপাচার্য নির্দেশ না দেওয়ায় কলেজের শিক্ষকরা কর্মচারী সমিতির সঙ্গে কথা বলতে রাজি নয়।” তপনবাবুর অভিযোগ, কর্মচারী সমিতির কোনও সদস্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের উপরে হামলা করেনি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং এক শিক্ষক উল্টে সুব্রতবাবুর উপরে হামলা করেছেন। তিনি বলেন, “কলেজের শিক্ষক দেবাশিস বিশ্বাসের প্ররোচনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করলে সমস্ত বিষয় স্পষ্ট হবে।” যদিও দেবাশিসবাবু ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “তপনবাবুরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নিগ্রহ করে দোষ আড়াল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। খোঁজ নিলে যে কেউ জানতে পারবে তপনবাবুর বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে।”

Advertisements