Islampur, 26/01/2012

 

তৃণমূল না কংগ্রেস, কে সিপিএমের ‘বি-টিম’, এই প্রশ্নে জোট-রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সদ্যই। সেই তরজায় অন্যতম ভূমিকা ছিল রায়গঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ দীপা দাশমুন্সির। এ বার সেই দীপার খাস তালুকেই কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদকে ‘কোণঠাসা’ করতে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইকে কাছে টানল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)! যার জেরে তৃণমূলকেই সিপিএমের ‘বি-টিম’ বলার নতুন রসদ পেয়ে গেল কংগ্রেস!
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর কলেজে ছাত্র সংসদ গঠনের সময়েই এই বিষয়টি ‘প্রকাশ্যে’ এসেছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলেজ চত্বর। ছাত্র পরিষদের তরফে এসএফআই এবং টিএমসিপি-কে কলেজে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশ গিয়ে লাঠি উঁচিয়ে ছাত্র পরিষদ সমর্থকদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে।
সংসদ গঠনের পরে এ দিন দেখা যায়, কলেজের ভোটে ছাত্র পরিষদ সর্বোচ্চ ২১টি আসন পেলেও সাধারণ সম্পাদক ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদ যথাক্রমে এসএফআই এবং তৃণমূলের দখলে গিয়েছে। ওই ছাত্র সংসদের মোট আসন ৪৪টি। যার মধ্যে এসএফআইয়ের দখলে ১৭টি এবং টিএমসিপির ৬টি।

বোর্ড গঠনের সময়ে এসএফআই এবং টিএমসিপি-র প্রতিনিধিরা একসঙ্গেই কলেজে ঢোকেন। তার আগে এসএফআই প্রতিনিধিরা তৃণমূলের দফতরে গেলে রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী আব্দুল করিম চৌধুরী তাঁদের মালা পরিয়ে দেন। কলেজ সূত্রের খবর, ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদে এসএফআইয়ের তরুণ বর্মন এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে টিএমসিপি-র মানিক ব্যাপারী নির্বাচিত হয়েছেন। দু’জনেই ২৩টি করে ভোট পেয়েছেন। যা কিনা এসএফআই এবং টিএমসিপি’র প্রাপ্ত আসনের যোগফলের সমান। প্রসঙ্গত, গত বার ওই কলেজের ছাত্র সংসদ দখল করেছিল এসএফআই।
এই ঘটনার পরে উত্তর দিনাজপুরের জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেছেন, “তৃণমূল বিভিন্ন সময়ে আমাদের সিপিএম ঘনিষ্ঠ বলে প্রচার করেছে। ইসলামপুর কলেজের ঘটনায় প্রমাণিত হয়ে গেল কে, কার ঘনিষ্ঠ! কে, কার বি-টিম।” তৃণমূল বিধায়কের সমালোচনা করেছেন ইসলামপুরের কংগ্রেস নেতা তথা পুর চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল অগ্রবালও। তাঁর কটাক্ষ, “কলেজে যাওয়ার সময়ে এসএফআইয়ের প্রতিনিধিরা তৃণমূল অফিসে গেলে গ্রন্থাগার মন্ত্রী তাঁদের মালা পরান। বোর্ড গঠনের পরে এসএফআই প্রতিনিধিরা ফের সিপিএম কার্যালয়েই ফিরে গিয়েছেন। গ্রন্থাগার মন্ত্রী নিজের নাক কেটে ছাত্র পরিষদের যাত্রাভঙ্গ করলেন।”
ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা মন্ত্রী করিম অবশ্য এসএফআইয়ের ছাত্র প্রতিনিধিরা টিএমসিপি-তে যোগ দিয়েছেন, এই দাবিতে অনড়। তাঁর যুক্তি, “এসএফআইয়ের ছেলেরা সকলেই আমাদের সংগঠনে যোগ দিয়েছে। সুতরাং, ছাত্র সংসদ তৃণমূলেরই হয়েছে। সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলানোর যে গল্প কংগ্রেস করছে, সেটা ধোপে টেকে না!”
তৃণমূলের ছাত্র নেতৃত্ব বিষয়টির মধ্যে ‘অস্বাভাবিক’ কিছু দেখছেন না। সংগঠনের সর্বভারতীয় নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “কলেজের ছাত্রেরা যদি টিএমসিপি-র প্রতি আস্থাশীল হয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়, তাতে আমি আস্বাভাবিক কিছু দেখছি না! কারও গায়ে তো টিএমসি বা এসএফআই লেখা থাকে না! একটা ছাত্র সংগঠন থেকে অন্য ছাত্র সংগঠনে তো আসাই যায়। তাতে তো আপত্তির কিছু নেই!” বৈশ্বানরবাবুর মতে, তাঁদের জেলা নেতৃত্ব নিতে চাইলে ওই এসএফআই সমর্থকেরা তৃণমূলের সংগঠনে যোগ দিতেই পারেন। 
পক্ষান্তরে, এসএফআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “আমরা ১৭টা আসনে জিতেছিলাম। গোপন ব্যালটে ছাত্র সংসদের সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গোপন ব্যালটে কারা আমাদের সমর্থন করল, তা তো বলা যায় না! কারা কী মনে করেছেন, তার দায় তো আমরা নিতে পারি না!”
ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে এসএফআইয়ের তরুণও জানান, তাঁরা এসএফআই ছাড়েননি। তিনি বলেন, “সংগঠনের নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। গোপন ব্যালটে ভোট হয়। কে ভোট দিয়েছে বলতে পারব না। টিএমসিপি-র সঙ্গে আমাদের জোট নেই।” তাঁদের ছাত্র প্রতিনিধিদের টিএমসিপি-তে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে গ্রন্থাগার মন্ত্রীর দাবি উড়িয়ে সিপিএম নেতা স্বপন গুহ নিয়োগীর বক্তব্য, “আমাদের ছেলেদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার দাবি ভিত্তিহীন।”

Advertisements