রায়গঞ্জ-কাণ্ড নিয়ে চাপানউতোর

রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের ঘটনা নিয়ে প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ দে সরকার রাজনীতি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। সোমবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে মারধরের ঘটনা অনভিপ্রেত। কিন্তু ওই ঘটনাকে সামনে রেখে গত শনিবার শিলিগুড়িতে বাম মনোভাবাপন্নদের ডাকে এক সভায় অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকারের মতো সিপিএমের প্রথম সারির নেতাদের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন দিলীপবাবু।” মন্ত্রীর অভিযোগ, অনভিপ্রেত ঘটনাটি সামনে রেখে প্রতিবাদ সভার নামে রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়েও বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে অনেক তথ্য মিলেছে বলে মন্ত্রী দাবি করেন। তিনি বলেন, “অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলানোর সময়ে দিলীপবাবু কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছেন সেই ব্যাপারে অনেক কথা শুনেছি। ২০১০ সালে পাস কোর্সের ২৯ জন ছাত্রছাত্রীকে অনার্সে পরীক্ষায় বসানোর ব্যবস্থাও উনি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তা নিয়ে শো-কজ করা হলে দিলীপবাবু ‘ক্ল্যারিকাল মিসটেক’ বলে দায় এড়িয়েছেন। এমন সব তথ্যই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” গৌতমবাবুর আরও অভিযোগ, বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই দিলীপবাবু নানা সময়ে বিধি ভেঙেছেন। এই সমস্ত অভিযোগ ঠিক নয় বলে দিলীপবাবু দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, “অধ্যক্ষের পদে থাকার সময়ে শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য যা করণীয় তা করেছি। সকলকে নিয়েই চলার চেষ্টা করেছি। কলেজ তো চলেছে। কখনও তো বন্ধ করার পরিস্থিতি হয়নি। এখন যা হয়েছে তা সকলে দেখেছেন। আমি বেশি কিছু বলতে চাই না।”

গৌতমবাবুর অভিযোগ শুনে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য সমালোচনায় সরব হয়েছেন। অশোকবাবু বলেন, “রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দল বিপাকে পড়েছে। অনেক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতিপূরণের চেষ্টাতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই গৌতমবাবু এ সব বলছেন।” পাশাপাশি, সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির সদস্য জীবেশ সরকারও অবশ্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দেন। জীবেশবাবু বলেন, “সিপিএম ওই দিন সভা করেনি। শিক্ষানুরাগী মানুষেরা ওই সভা করেন। দিলীপবাবু কী বলেন শ্রোতা হিসাবেই তা আমরা জানতে গিয়েছিলাম। ওই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি যে ভাবে নষ্ট হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণ করতে গৌতমবাবুরা পারবেন না। বরং তারা যে অপরাধীদের আড়াল করতে চেষ্টা করছেন তা স্পষ্ট। এখন তো মনে হচ্ছে ওই ঘটনার পিছনে মন্ত্রীদেরও হাত রয়েছে।” ওই দিন যাঁরা সভা ডেকে ছিলেন তাঁদের অন্যতম তথা শিলিগুড়ি সূর্যসেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ পার্থসারথি দাস জানান, দিলীপবাবু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে আক্রান্ত হয়েছেন তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তাকে অন্য ভাবে উপস্থিত করার চেষ্টা রাজনৈতিক বাধ্য বাধকতা থেকেই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কেউ আক্রান্ত হলে প্রতিবাদ করারর অধিকারও কী গৌতমবাবুরা বন্ধ করতে চাইছেন?” তৃণমূল শিক্ষা সেলের রাজ্য সহসভাপতি তথা আলিপুরদুয়ার কলেজের শিক্ষক দিলীপ কুমার রায় মনে করেন, অধ্যক্ষ নিগ্রহের মতো ঘটনা ঘটলে অবশ্যই প্রতিবাদ করা জরুরি। তাঁর কথায়, “নিগ্রহের ঘটনা অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। তবে অধ্যক্ষ, শিক্ষকদের নিরপেক্ষ ভাবে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের কথা ভাবতে হবে। এতদিন যে ভাবে সিপিএমের লোকজনকে অগ্রাধিকারের কথা ভাবা হয়েছে সে পথে হাঁটার কথা ভুলতে হবে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে কখনও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না-তুলতে পারে সে দিকে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে।”

About Amar Raiganj

https://www.facebook.com/theraiganjportal
This entry was posted in News, Raiganj, Uttar Dinajpur and tagged , , , , , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s