রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের গাফিলতির জেরে গত এক মাস ধরে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি থানার ডালখোলা এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দিনভর যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যার কথা পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না বলে নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ। ক্ষতির মুখে পড়ে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে উত্তর দিনাজপুর বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার দুপুরে রায়গঞ্জে সংগঠনের তরফে হুমকি দেওয়া হয়, অবিলম্বে যানজট সমস্যার সমাধান না হলে ফ্রেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডালখোলা এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধ করা হবে। পরিবহণ মালিকদের ওই হুমকির জেরে নড়েচড়ে বসেছে রেল ও জেলা প্রশাসন। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম ভূষণ পটেল বলেন, “রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জেরে ডালখোলা এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রসন্নকুমার মন্ডল জানান, অবিলম্বে যাতে ডালখোলা এলাকায় যানজট সমস্যার সমাধান হয়ে সেজন্য ইসলামপুর মহকুমা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশকে সঠিকভাবে যান নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।” প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ, মালদহ, বালুরঘাট থেকে শিলিগুড়ি রুটের প্রায় ২০০ টি বাস, ট্রেকার ও অটো প্রতিদিন ডালখোলা শহরের ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক হয়ে যাতায়াত করে। শহরের জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে রেল লাইন চলে গিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ টিরও বেশি ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ডালখোলা শহরে জাতীয় সড়ক রেল লাইন দিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াত করে। সেই কারণে প্রায় ৪৫ মিনিট অন্তর রেলগেট বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবার ১৫ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত রেলগেট বন্ধ থাকে। রেলগেট সংলগ্ন ডালখোলা স্টেশন এলাকায় রেক পয়েন্ট রয়েছে। ওই রেক পয়েন্টে দিনভর বিভিন্ন মালগাড়ি থেকে পণ্য সামগ্রী নামানোর পরে ট্রাকে করে ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। জেলা বাস ও মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, রেলগেট বন্ধ হওয়ার আগে ও খোলার পরে রেল কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে অপরিকল্পিত ভাবে জাতীয় সড়ক থেকে রেক পয়েন্টে ট্রাক ঢোকে ও বার হয়। ফলে জাতীয় সড়কে দিনভর যানজট লেগে থাকে। পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের অভাবে গত এক মাস ধরে যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ডালখোলার নিচিতপুর থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত ৩ কিমি সড়কে যানজট হচ্ছে। যানজটের নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি আটকে পড়ছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্সও। বিপাকে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকদের। অ্যাসোসিয়েশন জেলা সম্পাদক অশোক চন্দ বলেন, “রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের গাফিলতির জেরে প্রতিদিন শহরে ১০ ঘন্টারও বেশি সময় যানজট থাকছে। রায়গঞ্জ থেকে বাসে চড়ে শিলিগুড়ি যেতে যেখানে ৫ ঘন্টা সময় লাগে সেখানে যানজটে ৮-১০ ঘন্টা সময় লাগছে। যানজট সমস্যার সমাধান না হলে ফ্রেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ডালখোলা শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হবে বলে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

Advertisements